বুধবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৭

‘ঘোড়া ও প্রাচীর বিষয়ক’ থেকে কয়েকটি কবিতা


উৎসর্গপত্র

আমরা বিচ্যুত হবো এই সত্য পিতাদের জানা আছে
কার সঙ্গে দেখা হবে-আমরা তার জানি কতটুকু-যে সহায় হবো
বরং খাবি খাবো
অসহায় হয়ে তাকাবো পরস্পরের দিকে
ভেতরের প্রতিভাসকল বাষ্পের আকারে উড়ে উবে গেলে পর
বোনেরা, আমরা আমাদের দিকে নত হবো, আরও


হৃদয়ের বোনেরা

বোনেরা শাড়ি পরে এখানটায় দাঁড়ালো, তারা
স্থির ছবি পেতে চায়। বড় ভালো মৃদু-মন্দ হাওয়ার
ব্যবহার, মূহুর্তের পাতাগুলো সহজ উড়ছে

সদর দরোজা থেকে আমাদের মা, হাসিমুখ পত্রালি
জড়ো করছেন। বাড়িতে আছে এক কাগজি
লেবুর ঘ্রাণ মগজ খুশির ভাব টেনে নিচ্ছে মগজে

অত্যুজ্জ্বল হৃদয়ের বোনেরা পরপর সব ছবি
মূহুর্তগুলো শনাক্ত করে মূহুর্ত করে তুলছে, ভাড়ারে


আমি মূলত আমার চোখের দিকে

আর এখন গাছেদের ডানা মেলবার
আর এখন ডানাদের নিরুদ্দেশ হওয়া;
ডানাদের নিরুদ্দেশ হওয়া মৌসুম হতে ঝাকালো বৃষ্টি গেল

মৌসুম ভ’রে ঝাকালো বৃষ্টি
আর এখন গাছেদের ডানা
ডানাদের নিরুদ্দেশ

আমি ভেবেছি এই সবই আমি রটিয়ে দেবো
আমি ভেবেছি এই সবই আমি ভয়ংকর রটিয়ে দেবো
মৌসুম ভ’রে যে ঝাকালো বৃষ্টি!

হায় সুবজ! সবুজের গান! আমি মূলত আমার চোখের দিকে


আমাদের বাড়ি

মা-ভর্তি বাড়ি। বাবা-ভর্তি বাড়ি।
এর থেকে বেরুতেই পারছি না।
আমরা এক হালি ভাই-বোন। বলতে বলতে এগুই।

যখন কেউ কোন কথা বলছি না,
এর সীমানা প্রাচীর নিঃশব্দে লুপ্ত হয়ে যায়। সকল অনন্তকাল
ভ’রে সদর বারান্দা ধরে এগুতে থাকলে দূরে একটা সাইনবোর্ড ঝুলে থাকতে

দেখি। স্পষ্টাক্ষরে লেখা: ‘প্রবেশ উন্মুক্ত। এখানে কেউ বসবাস করছে না।‘
বিস্ময়ে বোবা হয়ে যাই,
ভাবি, ইতোমধ্যেই আমাদের হজম করে ফেলা হয়েছে।


কবির নিকৃষ্টতা ঘোষনা করছি

একভীড় রাত্রির হাওয়ায় আমার ঘোরতর সন্দেহ হলো:
কবিরা স্বভাব চামার।

মনুষ্যেরা যখন হাওয়ার মধ্য দিয়ে ভেসে এসে
হাওয়াই ভক্তি ও বিষাদে পশু বলি দেয়—
ইচ্ছুক কবিরা এসে চামড়া ছাড়িয়ে নেন
এবং জুতো তৈয়ারীতে মগ্ন হোন

প্রায়শই জুতোগুলো মাপমতো হয় না

চামারের মধ্যেও কবিরা নিকৃষ্ট চামার
দারুণ অর্থকষ্টে তাদের মৃত্যু হলে, হোক


হলুদ বন

কারো দিকে নয় এমনভাবে ছুটে আসে হলুদবন। তোমার বা আমার বা কোন তৃতীয়জনের দিকে নয়। এমনভাবে ছুটে আসে হলুদবন, অথচ আমাদের দিকে নয়।

তুমুল হলুদ ফুটছে, তুমুল বাক্যাবলী হচ্ছে বিনিময়। ফুটন্ত হলুদ নিজের সম্পর্কে প্রচুর বলছে। প্রচুর বলে বলে হলুদ হলুদতর হচ্ছে।

বন হলুদের ছবি, একটা উত্তম শৈলী। আমরা ধারণা করি, বুঝে গেছি ছবিতে কেন হলুদ রঙ, কেনই বা তা হলুদ বন? ছবিতে এই ছবির উপস্থিতি, হলুদের উপস্থিতি আমাদের স্বস্তি দেবে নাকি!

——

এখানে গাছে ডোরাকাটা হয়, বাঘ হয়। বাঘবন ও বনগাছ মিলে ছত্রখান হয়। এক শরীরি হয় তবু। একনাম।

একজনই এখানে ডোরাকাটা ছবি আঁকে। একটা বাঘই ভয়ানক দেখে সুদৃশ্য হাঁক ছাড়ে। এক অপরেরে ডিঙ্গোতে থাকে অবিশ্রাম। ফের এক আঁচড়ে মিলেমিশে খুন। 

——

চিরকাল ভরে সবুজই বন! বোনেরা ও আমার মৃত বোনেরা অন্তর্হিত হয় এর দিকে। মুখ বাড়িয়ে ‘থ’ হয়ে যাই। একটা নিঃসঙ্গ ঘর ঘিরে ঘোর প্লাবনের মতো বন বেড়ে চলছে। দরজার মুখে অসীম সংখ্যক বোনেরা কখন এসে দাঁড়ালে! তাদের গা’য়ের কাঁচা হলুদের রঙ এই বিস্ময়ের বনে...

প্রচুর হলুদ ডুবো জাহাজ হয়ে গেলে কেউ গ্রাহ্য করে না তারা হলুদ। প্রচুর জাহাজ ডুবো হলুদে ভরে গেলে কেউ গ্রাহ্য করে না তারা হলুদ। তারা এক একজন জাহাজী বন। প্রয়োজনে ভুস করে ভাসে। 

——

আমাদের প্রয়োজন ছিল একত্রে গোল হয়ে বসা। আমাদের প্রয়োজন ছিল গোল হয়ে একত্রে বসা। অথচ আমরা একজনের পর একজন হয়ে পান করি রক্তবর্ণ চা। চতুর্থ মুখ দেখা হয় না।

আমাদের প্রয়োজন ছিল প্রথম মাদক ছুঁয়ে দেয়া। প্রথমবারের মতো মন্দের ভাল হওয়া। প্রথম তরঙ্গের ঘাড়ে চড়ে বাঘবনে যাওয়া। প্রচুর ডুবে যেয়ে ভেসে ভাসবার জুয়া ধরা।

কেননা আমরাই বাঘ, আমরা বন, প্রচুর হলুদের জাহাজ আমরা।


ভর্তি চুলের মৃতেরা

কেউ কেউ মরে গিয়ে সাঙ্ঘাতিক হয়
কেউ কেউ মরে গিয়ে মরে গিয়ে সাঙ্ঘাতিক
মৃত সাঙ্ঘাতিকের মুখ দর্শন সহজ নয়
মৃত সাঙ্ঘাতিকের মুখ দর্শন সহজ কাজ নয়

একত্রে থাকাথাকির কিছু নাই
সাঙ্ঘাতিক হলেও ছাড়াছাড়ি হয়-হয়ে থাকে
সকলেরই যখন অহংকারে অমন কালোপানা মুখ
অবিরাম মিস্ত্রি কিবা করে! চুপটি করে থাকে

কেউ কেউ মরে গিয়ে হয় অত্যুজ্জ্বল মরণ
দৃষ্টির সে চাবুক আত্মা বিদীর্ণ করে দেয়
কেউ কেউ মরে গিয়ে আর মরে না
কেউ কেউ মরে গিয়ে মরে গিয়ে মরে না

________________


ঘোড়া ও প্রাচীর বিষয়ক আমার একমাত্র প্রকাশিত কবিতার বই। তিউড়ি প্রকাশন থেকে জুলাই-২০১৬ খ্রিঃ প্রকাশিত হয়েছিল। এর প্রায় প্রতিটি কবিতাই আমার নিজের পছন্দের। তাই বাছাই করাটা সামর্থ্যে কূলায় না। সুতরাং এই এলাপাথাড়ি কয়েকটি এখানে রইলো।  

রবিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৭

রাক্ষসের কবিতা ও আমার বয়ান





পলি মাটির দেশে- হাঁউ মাউ খাঁউ

“তোমার সকল বন্যা-এ দেহতে ঢেলে দিয়ে
জনপদ খুলে নিলে জানি...
এখন গমের ক্ষেত, ছড়ানো-ছিটানো ঢেউ;

গোলা ভরা সংসারে-মানুষ মৌসুম ভুলে যায়
তাই বুঝি যায়...?

তোমার সকল বন্যা-এ দেহতে ঢেলে দিয়ে
জিতে গেলে খুব বুঝি...আহা, শস্য গাদা-গাদা
মুছে নিয়ো পা এখন, ভালো করে ধুয়ো-
অসময়ের নোংরা কাঁদা।”

স্বীকারোক্তি

মানুষকে এতোবার জিতেয়েছি যে-বিভ্রম জাগে
মনে হয়-এ জগতে কোন ভুল-টুল নেই
এইখানে শুধুই জয়োৎসব।

নুড়ি নুড়ি ব্যথা সকলে জমিয়ে রাখে
অথচ রুমাল চিড়ে গেলে লালে
জলে ছুঁড়ে দিয়ে হেসে বলি-
জানো, সবার আড়ালে এক নদী ভাসে?

সকল গ্রহণ, রক্ত ফোঁটা, মোচড়ের ঝড়
নিয়ে নিয়ে এইতো দাঁড়িয়ে আছি
তবু যদি অভিযোগ হয়...যদি কেউ ডেকে বলে-
এতো জটিলতা-এতো এতো কল্পনায় রেখে
মানুষে মানায়...?

কোন এক নক্ষত্র দেয়াল-প্রজাপতি বুনে দিলে গালে
বিধানে গড়ায় অমরতা সাল, দাবা শুরু হয়ঃ
ছিঁড়ে ছিঁড়ে বুঝি-নিয়মই জেতে...?

ও আয়াত, আয়াতরে, বাবা যদি কখনো না পারে কিছু
ভুলে যায় চলে...তুই কাঁদিস না কিন্তু
এই জন্ম তাহাদের থাক;

হে জয়োৎসব, রাজ্যের মানুষ
হ্যাঁ...
আমিই রাক্ষস।

ভেক

তামাদের খাম মুছে তূণ তুলে রাখি
চারপাশে হড়বড়ায় পিতল-তারপিন নামঃ
রাক্ষস-রাক্ষস;

প্রভু, ভেক দাও... তেজারতির প্রমত্ত ভেক
কিছুদিন পা ছড়িয়ে বসি... খাপে-খাপে হাসি
রুমালের মনে গুনি ঘন্টার আঁচল-ভাঁজ সুখ
দু’জনের ভাঁজ সুখ...

ও রোকেয়া হল, সাড়ে নয়টায় ভ্রমর-পরাণ...?

প্রভু, ভেক দাও-ভেক... এইসব রাত অনুজীব
তিসি রক্ত
দানবের চোখে খনিজের ভান;

কোন একদিন শাস্তি শাস্তি বলে ঘুণ হয়ে গেলে
তাকেই পড়তে দিয়ো... দিয়ো তুমি-
এক রাক্ষসের দুঃখসমগ্র।

ফিসফিসানি

হাত ধইরা কইছিলা-‘মাইয়া লোকরে মানুষ না নি কয়?’ হেরপর আর দেখা হয়নি। দেখা হয়ও না। ফিরা যাইতে যাইতে একদিন জেনেছি-মইরা গেছো... যেমন কইরা আর সবাই মরে... যেমন কইরা এইখানে ওইখানে যায়... খায়-ঘুমায়... যেমন কইরা ভুইলা যায় ভুইলা যায়। কেয়ারা নৌকার খিল আঁইটা এখনো চিক্কুর মারি। মানুষ আর কতটুকু বদলায়? বড় হইলেই কি গাঙে ডুইবা মরে ঝাঁপ মারবার লোভ... মানুষ কি তাতে বড় হয়- হয় নি মাইয়া? ভ্রম বাড়ে-এক একদিন হিলহিলাইয়া বাড়ে। আল্লাহরে, কে মাটি কোপায়... তোর কাছে হাত তুইলা চায়-বৃষ্টি দিস বৃষ্টি দিস...? কারখানার শব্দ বাইছা চলি। মুইছা রাখি হাটের রাস্তা। তবু বুকে তুই চরকা নি কাটোস? দূরে গেলে দেখি হগলেই সোহাগের চরকা কাটে-সুতায় বান্ধে মন। ক্যান একজনের লগে দেখা হইবো-আর সারাজীবন কাইন্দা মরলেও সেই দেখা মুছবো না? মানুষ মানুষের কাছে কী থুইয়া যায় কোমল তুষের কিরা, গালি দিস তো দিস...তবু খোয়াব ডাইকা কষ্ট দিস না। খোয়াবের মানুষের রক্ত নি থাকে? হায়, কেয়ারা নৌকার খিল আঁইটা চিক্কুর মারি। তুই হাত ধইরা কস-‘মাইয়া লোকরে মানুষ না নি কয়?’ হেরপর বয়স মইরা যায়... যেমন কইরা হগলেই মরে-যেমন কইরা এইখানে ওইখানে যায়-খায়... যেমন কইরা মন ভুইলা যায় ভুইলা যায়! ভুইলা নি যায়?

দাগ

আমি তাহার শুকাইবার দাগ
মাটির ফুটা মাটির ফুটা-এই টুকুন
রক্ত নাই আওয়াজও নাই
চাকু জুইড়া খুন...

আমি তাহার এই টুকুন-এই টুকুন...


১.
কবিতা ঈশারা। কবি ঈশারাজীবী।

ব্রহ্মা সৃষ্টির দেবতা। হিন্দু পুরাণে আছে, রাক্ষসগণের সৃষ্টি ব্রম্মার নিদ্রাবস্থার নিঃশ্বাস থেকে। কিন্তু জন্মানোর সাথে সাথেই রাক্ষসরা এমনই রক্তপিপাসু হয়ে ওঠে যে, তাঁদের সৃষ্টিকর্তা ব্রম্মাকেই ভক্ষণ করতে উদ্যত হয়। ব্রহ্মা তখন চিৎকার করে বলে উঠেন, ‘রক্ষাম’, যার অর্থ হলো ‘রক্ষা করা’। ধারণা করা হয়, ব্রহ্মার এই চিৎকার থেকেই তাঁদের নাম হয় রাক্ষস দেবতা বিষ্ণু তাঁকে রক্ষা করতে প্রকট হন এবং রাক্ষসদেরকে পৃথিবী থেকে বিতাড়িত করেন। এই হলো রাক্ষসের পৌরাণীক পরিচয়।

আরও একটা কিঞ্চিত পরিচয় এই সুবাদে মনে আসলো। যদিও ‘যক্ষ’ রাক্ষস নন, কিন্তু রাক্ষসদের সমগোত্রীয় একজনই। মহাকবি কালিদাসের ‘মেঘদূত’ এই যক্ষের বিরহ-বেদনার আর্তি দিয়ে নির্মিত। কালিদাসের ‘মেঘদূত’ ও খন্দকার নাহিদ হোসেনের ‘রাক্ষস প্রণীত পাঠ’এ যদিও দূস্তর ব্যবধান, তবু একটা বিষয়ে তাদের সাজুয্য বিদ্যমান, আর তা হলো দুটোই প্রেমার্তির কাব্য। মেঘদূতে কালিদাস যক্ষের হৃদয়ের আর্তনাদ ফুটিয়ে তুলেছিলেন, আর রাক্ষস প্রণীত পাঠে কবি স্বয়ং আর্তস্বরে কাতর। ‘রাক্ষস প্রণীত পাঠ’এ কবি খন্দকার নাহিদ হোসেন নিজেই সেই রাক্ষস। তার প্রেমপিপাসা এতোই উত্তুঙ্গ যে, তিনি তার স্রষ্টা ‘নারী’কেই ভক্ষণ করতে উদ্যত। কে তাকে নিরস্ত্র করবে, কে তাকে পৃথিবী থেকে বহিষ্কার করবে? ব্রম্মার জন্য না হয় বিষ্ণু ছিলেন! কবি খন্দকার নাহিদ হোসেন জানেন, তাকে নিরস্ত্র করবার কেউ নেই। অসহায়ের মতো কবি উপলব্ধি করেন, তার আধুনিক কবি সত্ত্বার মুক্তির জন্য কেউ কোন হাত বাড়িয়ে নেই, তিনি যারপরনাই অসহায় এই পৃথিবীতে। তবুওতো তাকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবেই, আর তার চেষ্টার বয়ানই তার কবিতা। তার একমাত্র মুক্তির দূরুহ দরোজা। এবং ‘রাক্ষস প্রণীত পাঠ’ হলো সেই অমুঘ মুক্তির দলিল।

২.
কবিতা মূলত রহস্য করা। কবিতা মূলত রহস্যের রহস্য হওয়া।

কবিতা একটি বাহারী শিল্প। তার সারা গা এবং গা’য়ে পরাবার মতো উপাদান ঢ়ের। শব্দ, বাক্য, বোধ, চিত্রকল্প, ছন্দ, মিল কতকিছুই। রুপান্তরমূলক সৃষ্টিশীল ব্যাকরণের আবিষ্কর্তা নোয়াম চমস্কি মনে করেন, ভাষার সবচে সৃাষ্টশীল ও অশেষ উপাদানটি হলো বাক্য। বাক্যের এই অশেষ চরিত্রটাই ভাষাকে চিরকাল সৃষ্টিশীল ও গতিশীল রাখে। কবিতার ক্ষেত্রেও কি তাই নয়? শব্দ, হ্যাঁ শব্দকেই অনেকে কবিতার চাবিকাঠি মনে করেন, কিন্তু একটি ভাষায় তো শব্দসংখ্যা অসীম নয়। কবিতা হলো ভাষার সব থেকে উত্তুঙ্গ সৃষ্টিশীল পর্যায়। সব সময়ই যা অসীমের অভিমূখী। একটি কবিতা তখনই নতুন বলে প্রতিভাত হয়, যখন তা কোন বোধকে নতুন সব বাক্যবদ্ধের মাধ্যমে আমাদের কাছে উপস্থাপিত করে। আমরা তখন চমৎকৃত হই, আমাদের বোধ পরিতৃপ্ত হয় এবং আমরা নতুন কোন চমৎকারিত্বের দিকে ছুটতে থাকি। কবি খন্দকার নাহিদ হোসেনের ‘রাক্ষস প্রণীত পাঠ’এ আমি এমন চমৎকারিত্বের মুখোমুখি হই। তার প্রেমিক সত্ত্বা আমাকে মুগ্ধ করে। আর এই প্রচেষ্টাটি তারই ফলশ্রুতি। কবি তার কবিতাসমূহে আমাকে যে কারণগুলো দিয়ে আকৃষ্ট করেছেন, অন্যতমটি হলো তার ঈশারাপরায়ন স্বভাব। কবিতায় গল্প বলা আমার ঘোর না-পছন্দ। অমুক আসলেন, খাইলেন, অতঃপর শুইয়া পড়লেন; এই ঘরাণার গল্পীয় কথাবার্তা কবিতায়, অন্তত আধুনিক কবিতায় নিতান্তই অচল। আপনি সোজাসাপ্টা বর্ণনায় প্রেমিকার প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে মরে যাচ্ছেন, তো যান! আমি খুঁজি রহস্য, প্রেমিকা হাবিয়া দোজখের মতো দূর্বেধ্য ও ঘোরঅন্ধকার হইলে আমার মরেও শান্তি। আপনি তখন বলবেন, হায় দোজখে ঢুকতে তো দেখলাম ঠিকই, কিন্তু মরলো কী প্রকারে বা আদৌ মরলো কীনা! “প্রভু, ভেক দাও.../ তেজারতির প্রমত্ত ভেক” কবি খন্দকার নাহিদ হোসেন প্রেমিক সন্নাসী, সে এমনিভাবে ছদ্মবেশ খুঁজে মইরা যাওয়ার জন্য। উপরে ‘রাক্ষস প্রণীত পাঠ’ থেকে আমি পাঁচটি প্রিয় কবিতা শেয়ার করেছি। কবিতার পংক্তি/শব্দ ধরে ধরে আবিষ্কার দেখাবার প্রবৃত্তি আমার নেই। আমি পাঠকের উপর আস্থা রাখি। তাই খন্দকার নাহিদ হোসেনকে আবিষ্কার করার মূহুর্তে আমি তাদের দূর্বল সহযোগী হিসেবে নিজেকে চিহ্নিত করতে চাই না। আমার কবিতা বুঝার সামর্থের প্রতি আমি যারপরনাই আস্থাশীল। আর সেই আস্থার জায়গা থেকেই আমার পছন্দের কবিতাগুলো পড়তে দেয়া। কবির রহস্যপরায়নতা সুদীর্ঘকাল ধরে উন্মোচিত হোক।

৩.
কবির প্রতি কবির মুগ্ধতা ও তার প্রদর্শনে বাহুল্য থাকে। আর এই বাহুল্যতা কবিদের নিজস্ব সৌন্দর্যকে বিকশিত করে। একজন কবি যখন অপর একজন কবির প্রতি সংক্রামকভাবে সাড়া দেয়, তখন বুঝতে হবে এরা সমগোত্রীয়। বোধে ও ভাষায়, আকারে ও প্রকারে। কবি খন্দকার নাহিদ হোসেনের ‘রাক্ষস প্রণীত পাঠ’এ যে প্রেমিক নাহিদকে দেখতে পাই, তার সাথে আমি একাত্বতা বোধ করি। তার প্রতিটি কবিতায় তার মাটিগন্ধি প্রকাশ রয়েছে। সমকালের ছেচড় বাংরেজি ভাষা প্রয়োগ থেকে নাহিদ বহু দূরে অবস্থান করেন। তার শব্দগুলো প্রায়ই আবহমান বাঙলার জীবনগন্ধি শব্দ। তার থেকে উঠে আসে, মাটি-জলের সোঁধা ভাপ। প্রায়শই যা ঘটে থাকে, এইরকম গ্রামীন শব্দভান্ডার নিয়ে কবিরা গীতে মজে ওঠেন, নাহিদের কবিতায় তেমনটা আদৌ ঘটেনি। বরং তার ঈশারাপ্রিয় চিত্ত কবিতায় আরো জমে উঠেছে। অবলীলায় তার কবিতাকে বুঝে সিদ্ধ করে ফেলার কোন উপায় নেই। নাহিদের কবিতা পরিশ্রম দাবী করে, যতটা একজন কবি তার একজন আন্তরিক পাঠক থেকে দাবী করতে পারেন।

‘রাক্ষস প্রণীত পাঠ’ এর একমাত্র একটি নেতিবাচক দিকের কথা উল্লেখ করে আমার লেখাটি শেষ করতে চাই। সেটি হলো কবির অত্যধিক হাইফেন ও ডটপ্রীতি। ক্ষেত্রবিশেষে যা বিরক্তিরও কারণ ঘটায়। যতিচিহ্নের এরকম উপর্যপুরি ব্যবহারের জন্য নাহিদকে তাই অস্থির মনে হয়। যদিও কবিতাগুলো তার সুশান্ত ও ধীর। 

রাক্ষস প্রণীত পাঠ
খন্দকার নাহিদ হোসেন
ধরণঃ কবিতা
প্রকাশনঃ তিউড়ি প্রকাশন
প্রচ্ছদঃ কাব্য কারিম

শনিবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৭

আমার কবিতাযাপন

আমার ওজনে হালকা শরীরের
থেকে ভারী, কবিতা
বয়স ত্রিশের তুলনায় অনেকখানি
নুয়ে গেছি আমি
আমার মুখের দিকে তাকিয়ে
মা আরো বৃদ্ধ হোন
এখানে কিছু চমকায় না
এখানে নেই কোন তরবারি
কিছু না-বুঝার
দিন জাগার ক্লান্তি আর
রাতে একজন আততায়ী
চুষে রক্তজল
সকালের আলোয় আমার মা
কবিতার রুটি পরিবেশন করেন
হৃৎপিন্ডের কষানো মাংস দিয়ে
চোখ বন্ধ করে খাই
হাঁটছি তপ্ত আফ্রিকার বুকে
বন্দুকের চোরাকারবারি র‌্যাঁবোর সঙ্গে
একফাঁকে দেখা হলে
কেউ কারও কুশল জিজ্ঞাসা করছি না

বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০১৭

‘নিঃসঙ্গম’ পাঠ ও প্রতিক্রিয়া




মেয়েদের চোখে দেখা এই পৃথিবী হয়তো সত্যিই অন্যরকম। কিন্তু সাহিত্যে মেয়েদের চোখে দেখা পৃথিবীর সে-রকম কোন উল্লেখযোগ্য ছবি পাওয়া যায়নি। বাংলায় আমরা যাকে বলি ‘দৃষ্টিভঙ্গি’সেই দৃষ্টিভঙ্গিতেও মেয়েদের সঙ্গে পুরুষদের ঢের তফাত দেখা যায়। কিন্তু পৃথিবীর মহিলা সাহিত্যিকদের মধ্যে তাঁদেরই আমরা খুব উল্লেখযোগ্য বলি, যাঁদের রচনা অতিমাত্রায় পুরুষালি। পুরুষদের সমকক্ষ হবার বদলে মেয়েদের আলাদা কোন সাহিত্যরীতি নেই। মেয়েদের কিশোর থেকে যৌবনে রূপান্তরের সংকটকাল, সন্তানের প্রতি স্নেহ, স্বামীর জন্য ত্যাগ স্বীকার, মুখবুজে সংসারের সমস্ত যাতনা সহ্য করা ইত্যাদি বিষয়গুলি পুরুষদের রচনাতেই মহৎভাবে ফুটেছে। কে জানে এগুলো সবই অতখানি সত্য কিনা।”

ইতালিয়ান কবি মার্গেরিতা গুইদাচ্চি’র একটি কবিতা অনুবাদ প্রসঙ্গে উপরের কথাগুলো বলেছিলেন কবি সুনীল গঙ্গেপাধ্যায়। কবি শাফিনূর শাফিনের ‘নিঃসঙ্গম’ কবিতাবইটি নিয়ে আলোচনার সময় এই প্রসঙ্গের অবতারণা কেন? একটা ভালো কবিতাবইয়ের মুখোমুখি হলে প্রায়শই কতগুলো জীবনজিজ্ঞাসার মুখোমুখিও হতে হয়। একজন কবি একজন ব্যক্তি, যার দেখার ভঙ্গিটা অপরাপর সকল ব্যাক্তিদের থেকে স্বতন্ত্র। অন্তত ততোখানি, যতোখানি স্বতন্ত্র তিনি নিজে। হয়তো তা খুব সামান্য, খুবই সামান্য। আর এই সামান্যটুকুই ব্যাক্তি কবিকে চিহ্নিত করে, কবি হিসেবে তাকে স্বতন্ত্র অবয়ব দান করে। কবিতায় তাই ব্যাক্তি কবি তার সমস্ত জৈবিক, মানসিক উপস্থিতি নিয়ে প্রতিভাত হোন। আর কবিটি যখন হোন একজন নারী? পুরুষালী এই সাহিত্যিক ভাষাবিশ্বে একজন নারী কতটুকু তার জৈবিক ও মানসিক অস্থিত্বের স্বাক্ষর রাখেন, শাফিনূর শাফিনের কবিতাবইটি পড়বার সময় আমি এমন একটি জিজ্ঞাসাচিহ্ন নিয়েই এগিয়েছিলাম।

মেয়েরা

মদ খেলে মেয়েরা শুধু পেয়ারাগাছের গল্প বলে।
ঘোরগ্রস্ত চোখে ভুলে যায়
চন্দ্রাবতীর অন্তহীন অপেক্ষা আর অপমান।
তারা এলাচবনে তুমুল নৃত্যের ঘোরে
একের-পর-এক তির গাঁথতে থাকে শরীরে।
রক্তাক্ত হবার মুহূর্তেও মেয়েরা ভাবে,
মিটসেফে তুলে-রাখা খাবার গরম করার কথা।

উপরের কবিতাটিতে প্রকৃতপক্ষেই এমন এক মনোবিশ্বের সন্ধান আমি পাই, যা আমার অভিজ্ঞতার অগোচর। আমি আমার যাপিত পুরুষসত্ত্বা নিয়ে এমন কিছু সত্যিই কখনো লিখে উঠতে পারবো না এবং এইহেতু পাঠটিতে আমি নতুন এক অন্তদৃষ্টির সম্মুখিন হতে পারছি। কবিতাটি প্রথমবার পাঠের সময়ে আমি “রক্তাক্ত হবার মুহূর্তেও মেয়েরা ভাবে,/মিটসেফে তুলে-রাখা খাবার গরম করার কথা।”-এই পংক্তিদুটোতে কিছুটা বিরক্ত ও সন্দেহপ্রবণ হয়ে উঠেছিলাম। সন্দেহটা এই কারণে যে, মিটসেফের ‘খাবার গরম’ ভাবনাটিতে আমি গতানুগতিক পুরুষালী ইচ্ছারই প্রতিফলন দেখেছিলাম, এবং বিরক্তিটা এই কারণে যে, ‘এমনকি রক্তাক্ত হবারর মুহূর্তেও’ তারা তা ভেবে থাকে। পরবর্তীতে আমি গভীরভাবে যখন পাঠ করলাম, তখন মনে হলো, নারী যখন তার অস্থিত্বের ভেতর থেকেই নতুন অস্তিত্বের জন্ম দিয়ে থাকে, তাহলে সেই অস্তিত্বের ঠিকে থাকার ব্যাপারেও তাদের ভূমিকাটা সহজাতই হওয়ার কথা।

‘নিঃসঙ্গম’ কবিতাবইয়ের আরো একটি কবিতা পড়া যাক:

রাক্ষস

ধারালো-পাথর-হাতে আমার পুরুষ গিয়েছিল শিকারে
তখন পূর্ণিমা রাতে কে এনেছিল ডেকে তারে?
আমি সত্যি জানতাম না
অমন ভুলিয়ে-ভালিয়ে,
সুরে-সুরে লালাবাই শুনিয়ে-শুনিয়ে
একদিন এই একলা রাক্ষসটা আমাকে গিলে খাবে

আমি হারালাম আমার রাষ্ট্র!
আমি হারালাম আমার ধর্ম!
আমার ঘর পুড়ল, ছাই উড়ল

সিদ্ধার্থ, এর নামই কি তবে অহিংসা?
এরই মায়াই বুঝি তুমি ছেড়েছিলে ঘর?
দ্যাখো তাদের
চাপা ঠোঁটে,
চোখ 'রে কী তীব্র বিবমিষা!

এই কবিতাটি আমার বিশেষ প্রিয় এবং বইয়ের স্বার্থক কবিতাগুলোর একটি। বলা যায় মানুষ তার আবেগের মাংস খায়, এমনকি তা রান্না করেও খেয়ে থাকে। কবিতাটিতে প্রাগৈতিহাসিক একজন কোন পুরুষকে স্মরণ করা হয়েছে, যে ধারালো পাথর হাতে তার শিকারকে ধাওয়া করেছে। তারপর সেই শিকারকে সম্ভব হলে আগুনে জ্বলসে খেয়েছে। নিছক জৈবিক এই ক্রিয়াকান্ডকে কবি এখানে তার মানসিক প্রক্রিয়ার সাথে সংযুক্ত করেছেন এবং যার অন্তিম পরিণতি আবার সেই জৈবিকতায়। এই প্রসঙ্গে ‘চর্যাপদ’এর ‘আপনা মাংসে হরিণা বৈরী’ পংক্তিটির কথা মনে আসছে, মনে আসছে জীবনানন্দের ‘ক্যাম্পে’ কবিতাটির কথা। মানুষ তথা সমস্ত প্রাণীকূলের ভবিতব্যই এই সূত্রে বাঁধা। ‘রাষ্ট্র’, ‘ধর্ম’ ‘ঘর’ সকলই তাতে পুড়ে ছাই হয়, হচ্ছে। “সিদ্ধার্থ, এর নামই কি তবে অহিংসা?”

‘নিঃসঙ্গম’ কবিতাবইটিতে ‘নার্সিসাস’ নামের একটি কবিতা আছে। পুরো বইটি পড়ে আমার  মনে হয়েছে, বইটির নামই নার্সিসাস হতে পারতো। অধিকাংশ কবিতাতেই একজন নার্সিসিস্টের মানস ভ্রমনের স্বাক্ষর প্রতি অক্ষর-শব্দ-বাক্যে। নার্সিসাস তো কেবল আপন রূপমুগ্ধ একজন মানুষই নয়, সে তার মনেরও দাস। একটি আত্মসচেতন সত্ত্বা, যে তার ভেতর-বাহিরকে নিয়ত খুঁড়ে চলছে। নিজের সাথে নিজে প্রতিনিয়ত বাদ-বিসংবাদে মেতে উঠছে। ‘নিঃসঙ্গমে’ দেখতে পাই কবির নিজের আকাঙ্খা, সংকট, বিষাদ, মৃত্যুচিন্তার টুকরো টুকরো প্রকাশ। আর তাই আমার মনে হয়েছে শাফিনূর শাফিনের কবি না হয়ে অন্য কোন গত্যন্ত ছিল না হয়তো। কেননা শিল্পের অন্য কোন মাধ্যমে এতোখানি ব্যক্তিগত বিশ্ব গড়ে তোলা যায় না। এতোখানি স্পষ্টভাবে নিজের ক্ষত-বিক্ষত অস্তিত্বকে প্রকাশ করা যায় না। ‘নার্সিসাস’ কবিতাটি একবার পড়া যাক।    
    
নার্সিসাস

১.
আমরা মূলত গ্লাভসের ভিতরে খুলে-রাখা হাতের উচ্চতার মতো আচ্ছন্ন থাকতে ভালোবাসি! নেশা ধরলেই যেমন আমি আয়নার সামনে বিস্মৃত বসে থাকি।

২.
মাঝে-মাঝে নিজেকে স্পর্শ-করা-মাত্র এক অন্ধ পরিব্রাজক তিমি জেগে ওঠে, এক মাতাল ঘূর্ণিঝড়আমি ডুবতে থাকি।

নিজের শরীরের চেয়ে বেশি প্রিয় কি কিছু হতে পারে!

৩.
আমি একজনকে ভালবাসি, সে ভালবাসে বহুজনকে। আমি আবার এদিক-সেদিক ঘুরে এসে তাদেরকেও ভালবাসি। ভালবাসতে-বাসতে অস্ফুটে উচ্চারণ করি, ‘ডাইনি!’

৪.
মানুষ তাঁর জেদের কাছে ভীষণ অসহায়!

‘নিঃসঙ্গম’ কবিতাবইয়ের ‘মরবিড কবিতা’ সিরিজ, ‘ট্রমা’ সিরিজ, ‘শৈশব’, ‘আমি’, বিষাদবার’, ‘খুন’ এমনসব কবিতার শিরোনামগুলোই আমাদেরকে কবির মানস ভ্রমনের চিত্র, তার ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান ও পরিণাম সম্বন্ধে সচেতন করে তোলে।  তাই কবি যখন বলেন, “মুখের ভিতর কণ্ঠে আঙ্গুল ঢুকিয়ে/ জীবনটাকে টেনে বের করে ফ্যালো/ অবলিলাক্রমে হয়ে যাও খুনি” আমরা অবাক হই না। অবাক হই না “একেকটা খুনের পর/ উল্লাস/ প্রতিটা খুনের পর/ বুকের রক্ত স’রে-যাওয়া/ প্রতিবার খুনের পর/ নতুন খুন”-এর আহবানে। কবিতা হলো কবির যাপিত জীবনের সারাৎসার, তার প্রতিবিম্বও কি নয়? কবিতায় কবি নিজেকে উন্মোচন করেন, এবং আপন উন্মোচিত সত্ত্বার দিকে নির্ণিমেষ তাকিয়ে থাকেন। তাই কবিতায় আমরা দেখতে পাই স্বয়ং কবিকে, একটি স্বার্থক কবিতা কবির খন্ডিত সত্ত্বা বা অনেকাংশ কবি। এই দৃষ্টিকোন থেকে কবি শাফিনূর শাফিনের কবিতাগুলো পড়ার সাথে সাথে আমরা তাকে ছুঁয়ে যাই, তার বিষন্ন বলয়ের মাঝে আমরাও ঘুরপাক খাই। কেমন সে ঘুরপাক খাওয়া?    

ফিরে-ফিরে আসা

যতই কাছে যাই
দূরত্বটুকুই কেবল চোখে পড়ে!
অবধারিত এই সত্যের পরও
কী অমোঘ টানে
বার বার ফিরে-ফিরে আসি!

আলোচ্য কবিতাবইটি কবি শাফিনূর শাফিনের প্রথম বই। বইটিতে ৪৭টি কবিতা রয়েছে। প্রতিটা কবিতাই কবিতা হিসেবে উৎরে যাওয়া এমন বলার সুযোগ নেই। বরং বইটিতে কিছু কবিতা আছে যেগুলো মনে হয়েছে কেবলমাত্র পাতা ভরাটই করেছে। যেমন, ‘চোখ’, ‘মাঝরাতে স্বপ্ন ফের’ ইত্যাদি কবিতাগুলোর কথা বলা যায়। আর একটি বইয়ের সবগুলো কবিতাই সমান সুন্দর হতে পারে না। সর্বাঙ্গ সুন্দর কতগুলো কবিতা একটি কবিতাবইয়ে থাকলেও আমি সেই বইটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। এই হিসেবে কবি শাফিনূর শাফিন সম্ভবত তার প্রথম বইয়ে উৎরে গেছেন ভালোই।

কবিতাবই: নিঃসঙ্গম
কবি: শাফিনূর শাফিন
প্রকাশক: চৈতন্য