দুপুরগাছে বাহ ২০

মেয়েটার ভেতরে ভারতের গরম
কী নিবিড় চওড়া
পৃথিবীকে চমকে কাহিল করে দেবে
অলৌকিক দুপুর ঘিরে ধরলো
বন্দরে ভোঁ করে সাইরেন
তিন পা অনুতাপ করেছি কেবল
আমি মুগ্ধ কাফের
বাতাসে গেঁড়ে বসে আছি
চিটচিটে কটুগন্ধে ভারী বাতাস
সুখ্যাতি ছড়ানো ছিটানো
তোমাকে ফেটে পড়তেই হবে
রাত্তিরে খাবার সময়

সরল ও সোনার থিরবিন্দুতে
টুকরো টুকরো গভীর
আমি তার অসংখ্য গহীনে নিমজ্জ্বিত
সাহসলাগা আদুল গায়
এমন অযত্ন শূন্য মাতাল
আমার ক্ষুধার ভেতর
অনন্ত পথের গান
তোমার ক্ষুধায় পুনর্জন্ম
কী জন্মান্ধ এই ক্ষুধা
ভীষণ সোনা কোথায় তুমি
আমি সরল এক টুকরো
দস্যু টঙ বানিয়ে রেখেছি

তোমার চোখের দ্বিধার ভেতর
অল্প খোলা তুমি
আঁঠালো ফাঁক গলে
চুঁইয়ে নামছে
কোন এক লাল সেপ্টেম্বরে
কুপির নিছক আলোয়
ডুব দিই
এলোপাথারি স্বর্ণখনির ভেতর
রক্তবর্ণ গুঞ্জনধ্বনি
আমার কণ্ঠস্বরের দিকে তেড়ে আসে
আজ ও চিরদিকের জন্য
আমি অর্ধমৃত

দুটো কামনাতাড়িত ঘুঘু
শিরিষের পুরুষ্ঠ ডালে
দেখে তোমার ঝিরঝিরে মায়া হয়
জানালা দিয়ে একখিলি মুখ
বাড়িয়ে দিলে
উবু হয়ে তরিতরকারি কুটে
রাখছিলে হা-ঘরে বউলে
ঝোঁকে লেলিহান চুলোয়
গুজে দিচ্ছিলে শক্তপোক্ত লাকড়ি
বটিতে জ্যান্ত কৈয়ের ধড়
আলগা ধড় আর দেহগুলো
তড়পাচ্ছিল

আকাশের দেবতা কটাক্ষ
করলেন
হলুদ রঙ আচমকা ঘটে গেলো
ঝটিতে মুখ বন্ধুভাবাপন্ন
কালো-হলুদ ডোরাকাটা
আমি স্বীকার করছি এক লাফ
কারুকার্যখচিত
নানা খুঁটিনাটির সবচাইতে মধ্যে
তোমার এই অত্যন্ত
থেকে থেকে ঝোঁকে পড়া
একজোড় মাখন মাখানো হাসি 
তাড়স্বরে ছিটকে বেরোল

আমাকে তুমি বিছিয়ে দাও
দম পেষাইয়ের মেশিনে
পুরুষ্ঠ হৃদয় তোমার
চওড়া গরমের উপর
কৃষ্ণ মখমলের উজ্জ্বল জাজিমে
ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাও
আমি তোমার প্রতি আনুগত্যের
লাল শপথ
আসো আমাদের চলবার
কড়ি বর্গাগুলো
খনিশ্রমিকের দাসত্ব খাটিয়ে
সংগ্রহ করে নিই

ডানে বায়ে শ্বাসমূল কেঁপে যায়
বাতাসের ঝটকা এসে
একটি জানালায়
আহাদের ত্বক ছড়ে গেছে
যখন তুমি কাছে আসো
মুগ্ধ জনম ক্ষেপে বোম
ছিঁড়ে আশ্চর্য জীবন
নিগুঢ় নরম গোপন আকাঙ্খা
আমাদের রূপ দেখে থ
পূবের দরজা দিয়ে
ঘরের অন্দর শুনেছি
দেখেছি তোমার অসহ্য পা

আতঙ্কের মাঝেই ঘনায় উৎসব
বাহ হয়েই যখন গেছে
ওই পালকেরই পাখি ঈর্ষাবশত
ঘুনাক্ষর ডুবে যায়
শ্রী পাহাড়ের ঘরে তুমি
ঘুমের জন্তু দিয়ে ঘেরা
রোজ ভোর ভোর আমি
বড় রাস্তার মোড়ে
আগামীকাল এখনো নয়
দেশলাই কাঠিতে মুগ্ধ আগুন
অসহ্য শরীর পায়
আমাকে তুমি নির্ঘাত পুড়িয়েই মারো

দুপুরের আলোয় আকাশ
তোমার নামের শপথ
পৌত্তলিক পুরুষ আমি
আগুনের উপাসক
উপাসনা করি ঝড়ে
দানব বৃক্ষের উপাসক
তাড়ি খাই
আমাকে রেখো তোমার ভেতরে
তোমার ভেতরের ছাই
যেখানে যতো সহৃদয় পাথর
অশোকের দিন দেখে
সকলেই নির্ঘাত মরে যাই...

দুপুরগাছে বাহ


সোমত্ত দুপুর আকাশে একটা তীক্ষ্ণ ঈগল
ভারী চক্কর দেয়
চিরদিকের সূর্য রান্না করে
তার প্রার্থনাসমূহ

উজ্জ্বল একখিলি মুখ
জলদি জানলায়
ঘাই
মারে


আমার কবিতাযাপন


আমার ওজনে হালকা শরীরের
থেকে ভারী, কবিতা
বয়স ত্রিশের তুলনায় অনেকখানি
নুয়ে গেছি আমি

আমার মুখের দিকে তাকিয়ে
মা আরো বৃদ্ধ হোন
এখানে কিছু চমকায় না
এখানে নেই কোন তরবারি

কিছু না-বুঝার
দিন জাগার ক্লান্তি আর
রাতে একজন আততায়ী
চুষে রক্তজল

সকালের আলোয় আমার মা
কবিতার রুটি পরিবেশন করেন
হৃৎপিন্ডের কষানো মাংস দিয়ে
চোখ বন্ধ করে খাই

হাঁটছি তপ্ত আফ্রিকার বুকে
বন্দুকের চোরাকারবারি র‌্যাঁবোর সঙ্গে
একফাঁকে দেখা হলে
কেউ কারও কুশল জিজ্ঞাসা করছি না

বিনয়


ব্যথার জায়গাটা চুলকে নিই। বিনয় হেসে দেখেন, গায়ত্রীকে নিয়ে আমরা ভেবে সারা হই

বিনয়সম্ভব নাম গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক

বিনয় হাতে বিনয় (আমাদের বিনয়) হেঁটে যাচ্ছেন। তার কুশলী চোখের ঘোরে আম-জাম-বটের ছায়ার থেকে ভিন্নার্থেগায়ত্রী চক্রবর্তীরা ধরা খেয়েছেন। লন্ঠন হাতে বিনয় হেঁটে যাচ্ছেন। অনুরূপ, করে খাওয়া অর্থে হেঁটে-ই যাচ্ছেন

বিনয় হেসে দেখেন, এই সমস্ত তামাশাফল, সারফুল, শিউলি সরকার

বিনয় হেসে দেখেন, হেসে-ই দেখেন...

কলকাতার "দলছুট" ওয়েবজিনে তন্ময় ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত 'বাঙলাদেশ সংখ্যা'য় প্রকাশিত তিনটি কবিতা

"শিরিষের ডালপালা" বাঙলা ওয়েবজিনে প্রকাশিত "ঘোড়া ও প্রাচীর বিষয়ক" এর কয়েকটি কবিতা

উৎসর্গপত্র : ঘোড়া ও প্রাচীর বিষয়ক


আমরা বিচ্যুত হবো এই সত্য পিতাদের জানা আছে
কার সঙ্গে দেখা হবে-আমরা তার জানি কতটুকু-যে সহায় হবো
বরং খাবি খাবো
অসহায় হয়ে তাকাবো পরস্পরের দিকে
ভেতরের প্রতিভাসকল বাষ্পের আকারে উড়ে উবে গেলে পর
বোনেরা, আমরা আমাদের দিকে নত হবো, আরও


প্রচ্ছদ: ঘোড়া ও প্রাচীর বিষয়ক


গ্রন্থস্বত্ব: লেখক ।। প্রথম প্রকাশ: জুলাই-২০১৬ ।। প্রকাশক: মাইবম সাধন, তিউড়ি প্রকাশন, ১০ পরিবাগ মিউনিসিপ্যাল সুপার মার্কেট (হোটেল শেরাটন এর বিপরীতে), পরিবাগ, ঢাকা ।। যোগাযোগ: ০১৬৭৬ ১৪৭৮৪৪, ০১৯৫৩ ০০৬৫২৪ ।। ই-মেইল: teuriprokashon@gmail.com ।। প্রচ্ছদ: শাহ মাইদুল ইসলাম ।। মুদ্রণ : তিউড়ি প্রিন্টার্স, ঢাকা ।। মূল্য: ১৩০ টাকা। 

অনলাই পরিবেশক
www.rokomari.com

ISBN 978-984-34-0848-8

হৃদয়ের বোনেরা


বোনেরা শাড়ি পরে এখানটায় দাঁড়ালো, তারা
স্থির ছবি পেতে চায়। বড় ভালো মৃদু-মন্দ হাওয়ার
ব্যবহার, মুহূর্তের পাতাগুলো সহজ উড়ছে

সদর দরজা থেকে আমাদের মা, হাসিমুখ পত্রালি
জড়ো করছেন। বাড়িতে আছে এক কাগজি
লেবুর ঘ্রাণ, মগজ খুশির ভাব টেনে নিচ্ছে মগজে

অত্যুজ্জ্বল হৃদয়ের বোনেরা পরপর সব ছবি
মুহূর্তগুলো শনাক্ত করে মুহূর্ত করে তুলছে, ভাড়ারে


উজ্জ্বল আমার প্রেমিকা


উজ্জ্বল আমার প্রেমিকার বয়স বাড়ছে না
সে মৃত আর সঙ্গে গেছে আমার চোখ
তার দিকে ছুড়ে দেই একগুচ্ছ শাদা কাক
সে ফিক করে হেসে ফেলে

তার ত্বকের জেল্লা অন্ধ করে দিলে
বোবাশব্দে সে কান্না কাঁদি
আমি কাঁদি আমার চোখের ভেতর
গহীন চোখে

মস্ত তাদের উঠোনে
ছিল কাগজি লেবুর ঘ্রান
হাওয়া ফুসছিল একভীড়
থাবা উঁচু করছিল এক বড্ড বেড়াল
সাদাকালো
ছোপছোপ

তার ত্বকের জেল্লা অন্ধ করে দিলে
বোবাশব্দে সে কান্না কাঁদি
আমি কাঁদি আমার চোখের ভেতর
গহীন চোখে

হৃদয়ের বোন
যেন অত্যুজ্জ্বল
লালজামা
দাঁড়িয়ে তেমনই যেমন দাঁড়ালে সে দাঁড়ালে

উজ্জ্বল আমার প্রেমিকার বয়স বাড়ছে না
সে মৃত আর সঙ্গে গেছে আমার চোখ


নিতম্ব, কখনো মিথ্যে বলছে না


চোখ অসহায় করে তাকিয়ে আছি

শব্দকুসুম, প্রায় নিঃশব্দে এগিয়ে থামছে না

শনাক্ত হলো, সমস্ত দুঃখবোধই প্রচন্ড কুসুম নামধারী

যে কোন অভ্যাসই কোচিং শেষ করে বাড়ি ফিরছে

কোন তাড়া নেই, পষ্ট চোখে লেখা

শব্দকুসুম, প্রায় নিঃশব্দে এগিয়ে থামছে না

ঘোড়া ও প্রাচীর বিষয়ক


একটা ঘোড়া ও একটা প্রাচীরে ততটুকু ব্যবধান ঘোড়া ও প্রাচীরের
ব্যবধান যতটুকু

এছাড়া তারা একই বস্তুবিশ্বে দৃশ্যমান
যেন --

একটা ঘোড়া একটা প্রাচীর ডিঙ্গায় না
একটা প্রাচীর একটা ঘোড়া ডিঙ্গায় না
____

ঘোড়া ও প্রাচীরেরে কেন বেছে নেয়া এই প্রশ্ন জোয়াড়ের তোড়ে পাড়ে উড়ে আসতেছে
নিকশ সবুজের বন থেকে কত কি এমনি এড়ায়ে যেতে শিখে গেছি শিশুসূলভ মন লয়ে
যত ঘুম হয়েছে যত আরো হবে কেউ কেন তা জিজ্ঞেস করবে
কত পেরিয়ে গেছি কাকে কাকে আটকে দিয়েছি সে হিসেবে কিবা যায় আসে
মাকড়সা থেকে মানুষ কে না ফাঁদের চর্চা করে থাকে
মাকড়সা থেকে মানুষ কে না ফাঁদ কেটে শিকারের পলায়ন দেখে মর্মাহত হয়
মাকড়সা থেকে মানুষ সকলে নিজের নিজের পলায়নে তবু গর্ববোধ করে থাকে
____

বড় দুই প্রাচীর ঊষা আর সন্ধ্যা একে অপরকে না হনন করেই গ্রাস করে
ঊষা আর সন্ধ্যায়

অথচ একটা কমলা একটা মানুষ একটা ঈগল শুকিয়ে একশেষ হয়
অথচ একটা প্রাচীর একটা প্রাচীর একটা প্রাচীর দাঁড়িয়ে ঠায় ঘোড়াচল দৃশ্য উপভোগ করে
থাকে
না করে হনন ঊষা আর সন্ধ্যা --

ঊষা আর সন্ধ্যা পার করে
____

জানোয়ার জন্মে বেড়ে ওঠে জাগরণে জাগে ঘুমে ঘুমায় মরে যায়
মরে যায় যার-তার নিবিষ্ট কুঠুরীতে থেকে

ফাঁকতালে অনেকে মিলে দৌড়ায় যখন প্রাচীরের ঘেষে
ঘোড়দৌড় ঈষৎ বিশিষ্ট বলে আলাদা করে চেনা হয়

ঘোড়া এর বেশি কিছু নয়, কম কিছু নয়

স্থুল


হুবহু। মানুষটা আমারই মতো।
অতোট মাংসল নয়।
মানুষটা তবু মাংসল, স্থুল!

ধরো একখন্ড লাল মাংসের দিকে
ঝুঁকে আছি। ধরো এইবার বহুখন্ড লাল মাংসের
খোরাক হচ্ছি। এর সব অবধারিত?

ছুরি ও চাপাতির দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছি।
ছুরি ও চাপাতি চোখআড় করে তাকাচ্ছে।
এর সব অবধারিত। হচ্ছে হুবহু।

নির্ঘাত স্থুল লাল চাঁদ, আশ্চর্য্য মেদবহুল!

গোরস্থানে


মৃতদের গর্তে ঢেলে দেওয়া হলো
মৃতদের করা হলো পাথরচাপা
মৃতদের মুখভর্তি ছিল নিরবতা
মৃতদের পক্ষে কেউ ছিল না, কেউ না

গোরস্থানে রক্তবৃষ্টি হয়
গোরস্থানে ছাতা না থাকার মতই
স্বজনেরা বোবাশব্দ হয়
গোরস্থানে কেউ স্বীকার করে না, স্নান


হলুদ বন


কারো দিকে নয় এমনভাবে ছুটে আসে হলুদ বন। তোমার বা আমার বা কোন তৃতীয়জনের দিকে নয়। এমনভাবে ছুটে আসে হলুদ বন অথচ আমাদের দিকে নয়।

তুমুল হলুদ ফুটছে, তুমুল বাক্যাবলী হচ্ছে বিনিময়। ফুটন্ত হলুদ নিজের সম্পর্কে প্রচুর বলছে। প্রচুর বলে বলে হলুদ হলুদতর হচ্ছে।

বন হলুদের ছবি, একটা উত্তম শৈলী। আমরা ধারনা করি যেন বুঝে গেছি ছবিতে কেন হরুদ রঙ, কেনই বা তা হলুদ বন। ছবিতে এই ছবির উপস্থিতি, হলুদের উপস্থিতি আমাদের স্বস্তি দেবে নাকি!
____

এখানে গাছে ডোরাকাট হয়, বাঘ হয়। বনগাছ ও বাঘবন মিলে ছত্রখান হয়। এক শরিরী হয় তবু। একনাম।

একজনই এখানে ডোরাকাটা ছবি আঁকে। একটা বাঘই ভয়ানক দেখে সুুদৃশ্য হাঁক ছাড়ে। এক অপরের ডিঙ্গোতে থাকে অবিশ্রাম। ফের এক আঁচড়ে মিলেমিশে খুন।
____

চিরকাল ভ'রে সবুজই বন। বোনেরা ও আমার মৃত বোনেরা অন্তর্হিত হয় এর দিকে। মুখ বাড়িয়ে থ বনে যাই! একটা নিঃসঙ্গ ঘর ঘিরে ঘোর প্লাবনের মতো বন বেড়ে চলছে। দরোজজার মুখে অসীম সংখ্যক বোনেরা কখন এসে দাঁড়ালে! তাদের গা'য়ের কাঁচা হলুদের মতো রঙ এই বিস্ময়ের বনে ...

প্রচুর হলুদ ডুবো জাহাজ হয়ে গেলে কেউ গ্রাহ্য করে না তারা হলুদ। প্রচুর জাহাজ ডুবো হলুদে ভরে গেলে কেউ গ্রাহ্য করে না তারা হলুদ। তারা এক একটা জাহাজী বন। প্রয়োজনে ভুস করে ভাসে।
____

আমাদের প্রয়োজন ছিল একত্রে গোল হয়ে বসা। আমাদের প্রয়োজন ছিল গোল হয়ে একত্রে বসা। অথচ আমরা একজনের পর একজন হয়ে পান করি রক্তবর্ণ চা। সব চতুর্থ মুখ দেখা হয় না।

আমাদের প্রয়োজন ছিল প্রথম মাদক ছুঁঁয়ে দেয়া। প্রথমবারের মতো মন্দের ভাল হওয়া। প্রথম তরঙ্গের ঘাড়ে চড়ে বাঘবনে যাওয়া। প্রচুর ডুবে যেয়ে ভেসে ভাসবার জুয়া ধরা।

কেননা আমরাই বাঘ, আমরা বন, প্রচুর হলুদের জাহাজ আমরা।

ও বাড়ি


ও বাড়ি টানটান। কয়েকটা জবা ঘোর রক্তবর্ণ ফোটে আছে। কাগজের বাঘ, নীলাভ -- মূহুর্ত বিশ্রাম করছে না। পুতুল বেশ কয়েকটা খুব কড়ি-টড়ি খেলছে। আঁঁচড়ানো-খামচানোর মতো বিড়াল কালো আছে ধুরন্ধর। কড়ি উল্টো-পাল্টি নিলে নিঁখুত লক্ষ্যে টর্চ মারছে চোর পাহারাদার। কড়ি আর চোরে মিলে এক অংক ধরলে --

বাড়িতে তার উত্তর মিলছে না। আচানক উত্তেজনা ওখানে...

 

হররোজ একটা পাথর


আলগা পাথরে বসে শুনি অবিশ্রাম উনুনের
ধক

বালিকা
যে কোন উপায়ে ডাকলে তোমারে
সামান্য ভর বিয়োগ হয়
অতি
সামান্য
বিয়োগের ভর
তবু
হররোজ একটাই ঝড়ে ঝড়ে

পাথর

হররোজ একটাই ঝড়ে ঝড়ে পাথর
ঝড়লে
কারখানাতে সতর্ক হয়ে যাবো? আলগা পাথরে বসে অবিশ্রাম শুনি অবিশ্রাম উনুনের
ধক

কোন সারফুল এখানে তামাশা মনে হয়

সক্রিয় পাখির দিকে

সক্রিয় পাখিটির দিকে রাত্রির ছিপি খুলে গেল
খুলে গেল বেহায়া ছিপি

ফেনা
লালায়িত 
দেখে, মরে যাওয়ার যোগ্যতাগুলো পাখিরও
ছিল

হেই পাখি
বেপরোয়া বোতল 
ভয় 
হয়, 
ভয়
কেন, না শিখো

বাতিগুলো উবে গেলে পর
বোতল সব
উগরে গেল


পালক ভিজে চুপ হলো, পালক ও কোমল
পালক

পালক জীবিত কেউ হয়, মৃত কেউ
সক্রিয় পাখি
ঐ ছিপি
খুলে গেল

খুলে গেল

আবর্জনা স্তুপের ঈশ্বর

আবর্জনা স্তুপের দর্শক, আবর্জনা স্তুপের দর্শক নন
অগুন্তি মারিজুয়ানা খোপ; স্বয়ং ঈশ্বর অন্যমনে আর
বিরক্তিতে কুচকে গেছে দর্শকের আলোক সংবেদী
- 'ভ্রু'
ঘ্রাণেন্দ্রিয়ে তার অতিবড় 'ই্‌উওয়াই স্কুটি' বিস্ফো-
রিত হয়েছে...

আবর্জনা স্তুপের ঈশ্বর, আবর্জনা স্তুপের ঈশ্বর নন

করতালি

এই করতালি, আঘাতও
বৃত্তদলকিশোরী অপার অপার
মুখআলো হয়ে পটকার মতো ফুটছে,
শব্দ
ত্রাসগোলাপের মতো ফুটছে

কোন সব হলুদ বাঘিনী, লাগছে
ভেতরে ও বাহিরে 
এখানে ও ওখানে, তারা গোল হয়ে 
ঘুরে ঘুরে বাজছে, ঘুরে ঘুরে বজছে

ভাত

গর্ভবতী থালা। সুস্থিত।
আনন্দ। এক অন্তহীন দানা।
শাদা শাদা ফুল। বকপক্ষি।
সাদা সাদা ফল। নকুলদানা।

মূহুর্ত গভীর। ছবি।